
নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল :
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ছোট ছোট উদ্যোগ থেকেই একসময় বড় শিল্পের সৃষ্টি হয়। তাই কোনো ব্যবসা বা শিল্পকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার ৩৯৮ নম্বর বিসিক ভবনের নিচতলায় শুরু হয়েছে ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মেলার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত এ মেলা চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বড় শিল্পের মতো বিশাল আকারের না হলেও দেশের অর্থনীতিতে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের যাত্রাও কুটির শিল্পের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই শিল্পই বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে দেশের অনেক নারী আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বড় শিল্পপতিরা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে বিনিয়োগ করলে এখান থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কুটির শিল্পে তৈরি পণ্যের মূল্য ও চাহিদা গার্মেন্টস পণ্যের চেয়েও বেশি হতে পারে। তাই বড় বিনিয়োগকারীদের এ খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি মানুষকে আকৃষ্ট করলেও প্রকৃতিকে বাঁচাতে অনেক ক্ষেত্রে সনাতনী পদ্ধতির দিকে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে কুটির শিল্পের উদ্যোক্তা ও কারিগরদের প্রতি মানুষের কদর আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটোসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’-এ দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা ধরনের দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বাঁশের আঁশ দিয়ে তৈরি শাড়ি ও ওড়না, ভেজিটেবল ডাইং ফেব্রিক, জিআই পণ্য জামদানি, কুমারখালীর বেডশিট, শীতলপাটির বিভিন্ন পণ্য, আকর্ষণীয় শতরঞ্জি এবং কাঠ, বাঁশ ও বেতের তৈরি নানা হস্তশিল্প।
মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তারা সরাসরি ক্রেতাদের সামনে নিজেদের তৈরি পণ্য তুলে ধরছেন। এতে একদিকে উদ্যোক্তারা নতুন বাজার ও ক্রেতা তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও একই স্থানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও দেশীয় পণ্য দেখার এবং কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকদের আশা, ‘বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬’ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রচার-প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Leave a Reply