
সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে ঘাটাইলের ইউএনও মাহমাদুল হাসানের বদলি
তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করায় সাংবাদিককে ‘অফেন্সিভ মোডে’ যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. মাহমাদুল হাসান বদলি হয়েছেন। সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পর তাঁর বদলির বিষয়টি সামনে এসেছে।
মো. মাহমাদুল হাসান ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দৈনিক সমকালের ঘাটাইল প্রতিনিধি মাসুম মিয়া তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করার পর তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সময় ইউএনওর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনালাপে ইউএনও মাহমাদুল হাসান সাংবাদিক মাসুম মিয়াকে বলেন, “আপনি তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন। এটা ফাজলামি ছাড়া অন্য কিছু না। আপনি যদি অফেন্সিভ মোডে যান, আমি ইউএনও অফেন্সিভ মোডে যাব। আপনি কার কথা শুনে এ কাজ করতেছেন? এটা অফেন্সিভ মোড।”
<span;>যেসব তথ্য চেয়েছিলেন সাংবাদিক
এর আগে ঘাটাইল পৌরসভার পৌর প্রশাসকের কাছে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী লিখিত আবেদন করেন সাংবাদিক মাসুম মিয়া। আবেদনে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌরসভার বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।
আবেদনে উল্লেখ করা তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ঘাটাইল পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পৌরকর আদায়ের পরিমাণ এবং কোন কোন খাতে তা ব্যয় করা হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রাপ্ত এক শতাংশ রাজস্বের আয় ও ব্যয়ের হিসাব।
হাটবাজার থেকে খাস কালেকশন বাবদ আয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণ।
অটোরিকশা ও ভ্যানের লাইসেন্স বাবদ পৌরসভার মোট আয় এবং ওই খাতে ব্যয়ের হিসাব।
এসব তথ্য চেয়ে আবেদন করার পর সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনওর এমন কথোপকথনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি দপ্তরের আয়-ব্যয়ের তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা নাগরিকের একটি আইনগত অধিকার। এ ধরনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে তথ্য সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply