
অবৈধ সিসা ও মবিল কারখানা বন্ধের দাবিতে কালিহাতী থানায় ৩ শতাধিক মানুষের অবস্থান
নিজস্ব প্রতিবাদক কালিহাতি (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌলী এলাকায় অবস্থিত পমিজান মেটাল সিসা ও মবিল কারখানা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, দুর্গন্ধ ও ক্ষতিকর বর্জ্যের কারণে পরিবেশ, কৃষিজমি, গাছপালা ও প্রাণিকুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি বন্ধের দাবিতে গতকাল রোববার দুপুরে এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধি দল টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরে যায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখার জন্য এক সপ্তাহ সময় নেয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে মবিল কারখানার প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন এবং পমিজান মেটাল সিসা কারখানার গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে কারখানার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ পৌলী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল ভূঁইয়াকে থানায় নিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় তিন শতাধিক মানুষ কালিহাতী থানার সামনে জড়ো হন এবং একপর্যায়ে কারখানা বন্ধের দাবিতে থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় অভিযোগকারী নজরুল, শাহাজাল ও মোজাম্মেল হোসেন বলেন, কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বর্জ্যের কারণে আশ-পাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে কৃষিজমির ফসল, ফলজ গাছপালা এবং বিভিন্ন পশু-পাখি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসময় শাহাজাল বলেন, জমিতে আবাদ করা ঘাস কেটে গরুকে খাওয়ানোর পর প্রায় ছয় মাস আগে তাদের দুটি গরু মারা যায়। এতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটির দূষণের কারণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
থানায় এলাকাবাসীর অবস্থান কর্মসূচির খবর পেয়ে এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাফি খান কালিহাতী থানায় আসেন। তিনি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে কারখানাটির পরিবেশগত প্রভাব, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কার্যক্রমের বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের স্বার্থে পৌলী এলাকায় পমিজান মেটাল সিসা ও মবিল কারখানার দূষণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
পমিজান মেটাল সিসা কারখানার ম্যানেজার মো. চানমিয়া বলেন, “গতকাল দুপুরে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তর দুই পক্ষের লোকজনকে ডেকেছিল। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় কারখানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, ১৫ থেকে ২০ জন লোক কারখানার গেটের সামনে এসে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলছে। পরে কারখানার মালিক পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ একজনকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী তাকে ছাড়াতে থানায় আসে।”
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী বলেন, “কারখানা বন্ধ করার এখতিয়ার থানার নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।”
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply