
কালিহাতীতে চাঁদাবাজদের তাণ্ডব ও ওসির ঘুষ দাবি: সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বিস্ফোরক অভিযোগ
কালিহাতী(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চাঁদাবাজি, ট্রাক ছিনতাই ও মারধরের শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দা এস.এম. মামুনুর রশিদ। আইনি সহায়তা চাইতে গিয়ে উল্টো কালিহাতী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজমের চরম হেনস্তা, ঘুষ দাবি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার(২৯ জুলাই) দুপুরে কালিহাতী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কালিহাতী পৌরসভার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা এস.এম. মামুনুর রশিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মামুনুর রশিদ জানান, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা গত ২৯ এপ্রিল ধলাটেংগর বালুঘাট থেকে দুটি ড্রাম ট্রাকের ড্রাইভার এবং তার ছেলে মো: সিহাবকে ছিনতাই করে নিকরাইল বাজারে নিয়ে যায়। তার ছেলে সিহাব কৌশলে পালিয়ে এলেও সন্ত্রাসীরা দুইটি ট্রাকসহ ড্রাইভার দুজনকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে খালি কার্টিজ পেপারে জোরপূর্বক স্বাক্ষর রেখে ড্রাইভারদের ছেড়ে দিলেও গাড়ি দুটি তারা জিম্মি করে রাখেন।
ঘটনার পরপরই কালিহাতী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরদিন ৩০ এপ্রিল উপজেলার কোকডহরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাফি খানকে সাথে নিয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয়ের কাছে গিয়ে বিস্তারিত জানান। এসপি মহোদয়ের নির্দেশে কালিহাতী থানায় পুনরায় মামলা করতে গেলে তৎকালীন ওসি তৌফিক আজম মামলা নেওয়ার বিনিময়ে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ওসি তৌফিক আজম তাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ’ ট্যাগ দিয়ে অপমান ও অসদাচরণ করে থানা থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীকালে সাপ্তাহিক ছুটি ও আইনজীবী মারা যাওয়ার কারণে কয়েক দিন বিলম্ব হলেও গত ৪ মে তিনি টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কালিহাতী থানাকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। ৫ মে ভুক্তভোগী থানায় মামলার কপি জমা দিয়ে রিসিভ কপি গ্রহণ করেন।
তবে অভিযোগ ওঠে, মামলা হওয়ার পর থেকে ওসি তৌফিক আজমের নির্দেশে এস.আই রাব্বানি গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্র দাবি করে। কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও গাড়ি দুটি ফিরিয়ে না দিয়ে কালিহাতী থানায় জব্দ দেখানো হয়। পরবর্তীতে ১৯ মে মামলার নকল উঠিয়ে ভুক্তভোগী দেখতে পান, গত ৭ মে কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশের মাঠ থেকে গাড়ি দুটি জব্দ দেখানো হয়েছে। সেখানে পৌরসভার কোনো প্রতিনিধিকে সাক্ষী না করে, আসামিদের ইচ্ছামতো তাদের পার্টনারদেরই সাক্ষী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্থানীয়দের মতে কালিহাতী থানার দক্ষিণ পাশে এমন কোনো মাঠেরই অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ রয়েছে, ওসি তৌফিক আজম আসামিদের সাথে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সাজানো নথিপত্র তৈরি করে তাদের জামিনে বের হতে সরাসরি সহায়তা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আরও জানান, গত ১৭ মে রাতে গ্রাম থেকে ফেরার পথে ওসির নির্দেশে পুলিশ তাকে ধাওয়া করে। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি নদীর পাড়ে মোটরসাইকেল রেখে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সারারাত ধানক্ষেতে লুকিয়ে রাত যাপন করতে বাধ্য হন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি নিজের আকুতি জানিয়ে ভিডিও ধারণ করে পোস্ট করলে সাংবাদিক সমাজ বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয় এবং তার পাশে এসে দাঁড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে এস.এম. মামুনুর রশিদ বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব যেখানে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া, সেখানে থানার ওসি নিজেই চাঁদাবাজদের সাথে আঁতাত করে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্র করছেন। মিথ্যা জব্দ তালিকা ও ঘুস দাবির বিষয়ে আমি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ছিনতাই হওয়া ড্রাম ট্রাক উদ্ধার এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Leave a Reply